৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
www.motherlandnewsbd.com

রাসেল হত্যার প্রধান আসামি কুলি বাবুকে অর্থ সহায়তার অভিযোগ রেলওয়ে কর্মচারীর বিরুদ্ধে

জামি রহমান,নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহী নগরীর রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জিএম ভবনের বাজেট শাখা’র উচ্চমান সহকারি মোঃ সোহেল রানার বিরুদ্ধে যুবলীগ কর্মী রাসেল হত্যার প্রধান আসামি কুলি বাবুকে অর্থ সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ নভেম্বর (বুধবার) দুপুরে রাজশাহী রেল ভবনের টেন্ডারবাজ কিছু সন্ত্রাসী পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে রাসেলকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। আর এ হ্যাকান্ডের অন্যতম প্রধান আসামীদের একজন কুলি বাবু।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, গত ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারীতে জিএম ভবনে ভান্ডার শাখা’র অসিফ সহকারি হিসেবে যোগদান করেন। এ থেকে স্থানীয় কুলি বাবু, পেদু বাবু, ঠান্ডু ও সুজনসহ একাধিক সন্ত্রাসীবাহিনীদের সাথে তার সক্ষতা গড়ে উঠে।
জানা গেছে, রেলওয়ে লোন শাখায় চাকুরির সুবাদে ঘুষ বানিজ্যের সাথে জড়িয়ে বিপুল অর্থ উপার্যন করেন সোহেল রানা। মুলত লোন পাশের ফাইল প্রসেসিং এর দায়িত্ব থাকার সুবাদে এ অর্থ হাতিয়ে নিতেন তিনি। এবং এর কিছু অংশ ব্যায় করতেন ওই সকল সন্ত্রাসীবাহিনীদের কাছে। নিজের আধিপাত্য টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের ব্যবহার করতেন বলে একাধিক রেলওয়ে সুত্র থেকে জানা গেছে।স্থানীয়রা বলেন, সোহেল রানা প্রায় এসকল বাহিনীদের নিয়ে মাদক স্পট জাহাজ ঘাট, মিজানের মোড়, টাংগন ও হরিপুর এলাকায় গিয়ে ফেনসিডিল সেবন করতেন।আর এ সকল সন্ত্রাসীদের মাদকের অর্থের যোগান দিতেন রেলওয়ে কর্মচারি সোহেল রানা।সেই সাথে অধিপত্য বিস্তারের লক্ষে মাদক স্পট থেকে ফেরার পথে বিভিন্ন চায়ের দোকানে গ্রুপ ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট দিতেন। এ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারি অভিযোগ করে বলেন, কুলি বাবু ও সুজন প্রায় অফিসে এসে সোহেলের কাছে প্রকাশ্যে টাকা নিয়ে যেতো এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অফিস চলাকালিন সময় কাউকে তোয়াক্কা না করে ওপেন মাদক সেবন করতেও দেখা গেছে তাদের।এছাড়া বিভিন্ন অফিসে প্রভাব খাটিয়ে এবং অফিসারদের হুমকি দিয়ে টেন্ডারবাজি করতো তারা। তাদের বেপরোয়া চলাফেরা দেখে ভয়ে মুখ খুলার সাহস পেতেন না কেউই।বর্তমানে সে হত্যা মামলার আসামিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে বলেও জানা যায়।বাংলাদেশ সরকার রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারিদের সুবিধার্থে গৃহ নির্মানের ক্ষেত্রে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং গৃহ মেরামতের ক্ষেত্রে ৬০ হাজার টাকা লোন প্রদান করে। এ লোন পাশ করতে গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে ১০/২০ হাজার টাকা করে জন প্রতি নিয়ে থাকেন সোহেল রানা।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর বুধবার দুপুরে রাজশাহী রেলওয়ে সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণ অফিসের মেইন গেটের সামনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুজন, কুলি বাবু, ঠান্ডু, পেদু বাবু, কাসেম, স্বপন, রিপনসহ একাধিক সন্ত্রাসীরা যুবলীগ কর্মী রাসেলকে(২৮) কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় তার বড় ভাই রাজা (৪০) ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন।রামেকে দুইদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকক্টার যোগে তাকে ঢাকা এপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ বিষয়ে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে উচ্চমান সহকারি মোঃ সোহেল রানা বলেন, গত ৪ বছর যাবত আমি বাজেট শাখা’য় আছি। আর খুনি কুলি বাবুর ভাই আত্তিয় স্বজনদের সাথে আমার পারিবারিক সম্পর্ক দির্ঘদিনের। অর্থ সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা গরিব তাই আমি তাদের অর্থ দিয়ে সহযোগীতা করতাম কিন্তু এখন করিনা।

Share Button


     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ