৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
www.motherlandnewsbd.com

রাজশাহী ১ আসনে বইতে  শুরু  করেছে নৌকা ও ধানের শীষের নির্বাচনী হাওয়া। মাদারল্যান্ড নিউজ

মাহবুব আলম জুয়েল (সম্পাদক):  গোদাগাড়ী আসনে নৌকার প্রার্থী  ওমর ফারুক চৌধুরীকে আগে থেকেই  নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা গেলেও বুধবার ১২ই ডিসেম্বর থেকে দেখা যায় ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার আমিনুল হককে। রাজশাহী -১ আসন টি ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত, এ আসন থেকে যে দলের প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান সে দল সরকার গঠন করেন এবং মন্ত্রী পরিষদে স্থান পেয়েছেন শুধু বর্তমান সংসদে দুর্ভাগ্যক্রমে মন্ত্রী বঞ্চিত ছিলো তবে  প্রতিমন্ত্রী  হয়েছে রাজশাহী -১ আসনেটি।

এ আসনটি গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৩শ ৫২ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ১ লাখ ৯২ হাজার ৭শ ২৩ জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৬১৯ জন। রাজশাহী-১ আসনে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।

কেউ কেউ ওমর ফারক চৌধুরী পক্ষে কাজ করা শুরু করেছেন। যাদের বেশী ক্ষোভ আছে তারা যদি ভিতরে ভিতরে উল্টা থাকে তবে নৌকা প্রতীকের জন্য ব্যপক ক্ষতি হবে পারে। নৌকার  প্রতীকের প্রতি  ভালোবাসার টানে সেটা হবার কথা নয় বলে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা বিশ্বাস করছেন।অপর দিকে দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সাথে যারা ছিল তাদের বেশীর ভাগই দল পরিবর্তন করেছেন, আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন এবং সুবিধা অব্যাহতভাবে ভোগ করে যাচ্ছেন।

তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন কাঁকনহাট পৌরসভার মেয়র, গোদাগাড়ী বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ মাস্টার, গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির সাবেক সহঃ সাধারণ সম্পাদক শারওয়ার জাহান ডাবলু চৌধুরী, গত উপজেলা বিএনপির সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম কামরুজ্জামান বকুলসহ ডজন খানিক হেবী ওয়েট নেতা।সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট নিজ বাড়ীতে ওমর ফারুক চৌধুরী এমপির হাতে হাত দিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন বিএনপির সাবেক সভাপতি, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মো: ইসহাক, তাই নির্বাচনী প্রচারনায় নেতা সংকটে পড়তে পারেন ব্যারিস্টার আমিনুল হক। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন যারা চলে গেছেন তারা ছিল সুবিধাবাদী, তারা দলের জন্য ক্ষতিকারক ছিল।

সমূদ্র থেকে ১০/১২ বালতি পানি উঠানে সমুদ্রের পানির কমতি হয় না যেমন তেমনী বিএনপি বড় দল এখান থেকে ওই রকম ১০/১২ জন সুবিধাবাদী নেতা চলে গেলে দল আরও শক্তিশালী হবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি।আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক ডাক ও টেলিযোযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক। ভোটারেরা বেশ হিসেব নিকাশ শুরু করেছেন কাকে বেছে নিবেন।

ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও তার নেতাকর্মীরা বিএনপি জামায়াত জোট থাকাকালীন সময়ে যে ব্যপক উন্নয়ন করেছিলেন সেটাকে পুজি করে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চাই আর বর্তমানসহ মহাজোট সরকারের বিগত ১০ বছরের উন্নয়ন ও সাফল্যকে পুজি করে ভোটারদেও মন জয় করাতে চাই। নৌকার  প্রার্থী  ওমর  ফারুক  চৌধুরী ।আর নির্বাচনী বিশ্লেষকগন মনে করেন প্রার্থী, নেতা, কর্মীগনকে খুবই কৌশলী হতে হবে এবারের নির্বাচনে । তারা আরও মনে করেন, বাংলা ভাই, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ইস্যু করে বিএনপি প্রার্থী ব্যারি. আমিনুল হককে নির্বাচনী মাঠে বেকায়দায় ফেলতে পারেন অপর দিকে বর্তমান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীকে কিছু অসৎ ইউপি চেয়ারম্যানদের উৎকোচ নিয়ে ভিজিডি, ৪০ দিনের কর্মসূচি, বিভিন্ন ভাতা, বিভিন্ন কার্যক্রম করেছেন তাদের জন্য নির্বাচনী মাঠে বিবৃতকর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারেন।

তারা আরও বলেন, কিছু অসৎ নেতা শিক্ষক, অধ্যক্ষ, ডিপ ড্রাইভার, নাইডগার্ড নিয়োগে মোটা অংকের নিয়োগ বানিজ্য করেছেন, কৃষকের হক নষ্ট করে সরকারী খাদ্য গুদামে গম, চাউল নিজেরাই গুদামজাত করেছেন, অঙ্গল ফুলে কলাগাছ তার পর বটবৃক্ষ হয়েছেন, তাদেরকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচার করলে ভোট নষ্ট হতে পারে বলে তারা মনে করেন।তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবন, রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ সরকারী করণ, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে সে উন্নয়নকে ভোটদের মাঝে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারলেই নৌকা প্রতীক, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার পচ্ছন্দের প্রার্থী ভোটের মাঠে বেশী সুবিধা পেতে পারেন নির্বাচন বিশ্লেষতগন মনে করেন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বড় চ্যালেঞ্জ তার বিপরীতে কাজ করা সেভেন স্টার ও তাদের সমর্থকদের পক্ষে আনা। তাদের মন থেকে পক্ষে আনা সম্ভাব নয় বলে মনে করছেন অনেকেই। তারা যদি নৌকার প্রতীকের পক্ষে না আসে তবে এ সুবিধা যদি ধানের শীষের প্রার্থী পায় তবে তারা নির্বচনী মাঠে একধাপ এগিয়ে যাবে।তাই নৌকার প্রার্থী ও এর নেতাদের সেভেন স্টারদের নির্বাচনী প্রচারনার কাজে লাগানো জরুরী। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী, ব্যারি. আমিনুল হকের বড় ভাই সাবেক আইজিপি মোঃ এনামুল হককে ১৭ হাজার ৩শ ৩৬ ভোটে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বিএনপি ভোট বর্জন করায় বিনা প্রতিদ্বনিদ্বতায় এমপি হন তিনি। এবারো আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।এ আসনটি থেকে স্বাধীনতার পর থেকেই বড় দলের মনোনীত প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের মন্ত্রী জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান।

প্রথম ও সর্বশেষ সংসদে আওয়ামী লীগের এমপিরা এই আসন থেকে প্রতিনিধিত্ব করলেও যোগ্যপ্রার্থী না পাওয়ায় এ আসনে শক্ত অবস্থান তৈরী করছে বিএনপি। দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন।তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার এমপি হন এ আসন থেকে। এর পর দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন এই সাবেক সাংসদ ব্যারিস্টার আমিনুল হক। তখন তিনি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলেন বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন।

স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৮৬ সালে ৭ মে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে জামায়ের প্রার্থী অধ্যাপক মজিবুর রহমান এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে এমপি নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোহসীন।

যিনি বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আমীর। এরপর ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের ৪র্থ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ দুরুল হুদা এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯১ সাল থেকে পাল্টে যায় এখানকার রাজনৈতিক দৃশ্যপট।ওই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যারিস্টার আমিনুল হক বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংস্থাপন, আইন প্রতিমন্ত্রী, হিসেবে ঠাঁই পান খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়। ব্যারিস্টার আমিনুল হক ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সালের পয়লা অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হন।

ফলে একটানা তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। খালেদা জিয়ার সরকারের দুই মেয়াদেই তিনি প্রথমে প্রতিমন্ত্রী এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ফারুক চৌধুরী ২০০১ সালের নির্বাচনে আমিনুল হকের কাছে হেরে যান।তবে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমিনুলের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়, মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯টি । এতে গ্রেফতার এড়াতে তিনি আত্মগোপন করেন। ফলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন তার বড় ভাই সাবেক আইজিপি মোঃ এনামুল হক।

তিনি ফারুক চৌধুরীর কাছে হেরে যান। নৌকার প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত এক দশকে আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোসহ সকল খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এর সুফল পাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আবারো নৌকায় ভোট চান ফারুক চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, সামাজিক, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বলায় ও কৃষিতে ভুর্কক্তির কারণে সারের দাম কম হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে গেছে।প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতা রাখতে, ২০২১ ইং সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে এলাকার মানুষ নৌকায় ভোট দিবেন। এদিকে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বর থেকে আমরা নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা শুরু করেছি, নেতা কর্মী সমর্থকেরা মাঠে কাজ করছেন।আমি মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে গোদাগাড়ী তানোর উপজেলাসহ রাজশাহী অঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কালভাট নির্মান করেছেন, নতুন নতুন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন, মসজিদ, মন্দির গ্রীর্জায়, অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলাম, যা সংস্কার অভাবে এখন অবহেলিত, উন্নয়ন হয়নি, তাই এলাকার মানুষ পরিবর্তন চাই, ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে, গণজোয়ার সৃষ্টি করবে।নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ, গ্রহন যোগ্য নির্বাচন হলে, ভোটারেরা নিজের ইচ্ছা মত ভোট দিতে পারলে ইসাল্লাহ ধানের শীষের প্রার্থী বিশাল ভোটের ব্যবধানে পূর্বের মত বিজয়ী হবেই। প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষের নেতা কর্মীরা যাই ভাবুক না কেন ? সচেতন, শিক্ষিত ভোটারেরা মনে করেন এ আসনে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মাঝে। এ লড়াই দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আগে থেকে কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

প্রকাশিত: মাদারল্যান্ড ডেস্ক।

Share Button


     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ