৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
www.motherlandnewsbd.com

রাজশাহী রাণীনগর নৈশ-উচ্চ বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে এ সপ্তাহেই তদন্ত শুরু, থলের বিড়াল বেরিয়ে আসার আতঙ্কে প্রধান শিক্ষক

মাদারল্যান্ড নিউজ ডেস্ক: রাজশাহী নগরীর রাণীনগর নৈশ-উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণী পাশ সার্টিফিকেট বানিজ্য, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম প্রধান করে তদন্ত ককমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সপ্তাহের মধ্যে যে কোন কোন তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নাসিরুদ্দিন।
এদিকে, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় রানীনগর নৈশ বিদ্যালয়ের অনিয়ম ও ৮ম শ্রেণী পাশ সার্টিফিকেট বানিজ্যের সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে স্কুলে নিয়মিত আসা বন্ধ করেছেন প্রধান শিক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলাম।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক ইচ্ছা মতো স্কুলে আসেন আর খাতায় সহি দিয়ে চলে যান।
এছাড়াও স্কুলে নিয়ম বর্হিভূত ভাবে ২০১৫ সালের জুন মাসে ও জুলাই মাসে দুইজন শিক্ষিকা ও একজন শিক্ষককে চাকুরীতে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এদের মধ্যে, কাব্য তত্বের শিক্ষিকা একজন। সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষিকা একজন। জানা যায়, কাব্য তত্বে যোগদানের সময় হিন্দু ছাত্র-ছাত্রী দেখানো হয়েছিলো ১০০জন। সেই সময় স্কুলে হিন্দু ছাত্র-ছাত্রী ছিল মাত্র দুই জন। এছাড়াও সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষিকাকে নিয়োগ দেয় হয়েছিলো অবৈধ কমিটি গঠন করে।
হিসাব বিজ্ঞানের শিক্ষক রোকনুজ্জামানের সার্টিফিকেট নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, এ্যামেরিকান বাংলাদেশ থেকে তিনি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে রানীনগর নৈশ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ২০১৫ সালের জুন মাসে। জানা গেছে শিক্ষক রোকনুজ্জামানকে (বিএড) স্কেল দেয়া হয় নাই।
মোঃ শোয়ায়েব আলী সহকারী শিক্ষক (কৃষি) তিনির নিয়ম বর্হিভূত ভাবেই দেনদরবারের মধ্যে দিয়েই নৈশ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। স্কুল সুত্রে জানা গেছে, নিয়োগের বিষয়ে কমপক্ষে ৩জন প্রার্থী থাকতে হয়। সে সময় দুইজন প্রার্থী’র মধ্যে মোঃ শোয়ায়েব আলী ছিলেন। আর এ ভাবেই তিনি কৃষি শিক্ষকের জায়গায় নিয়োগ প্রাপ্ত হন।
মোঃ শফিকুল ইসলাম (বিজ্ঞান) তিনি যে সময় নিয়োগ প্রাপ্ত হন। সে সময় ১১জন প্রার্থী ছিলেন। পরিক্ষায় ১১ জানের মধ্যে মোঃ শফিকুল ইসলাম ৭ নম্বরে ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে ১ থেকে ৬ নম্বরকে ডিঙ্গিয়ে তিনিও শিক্ষক হয়েছেন।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের শিক্ষকদের অভিযোগ, খেলাধুলা, লাইব্রেরীসহ বিভিন্ন সরকারী অনুদান আসলে তিনি শিক্ষকদের সাথে কোন প্রকার মিটিং বা আলাপ আলোচনা করেনা। অনুদানের অর্থ একাই লোপাট করেন তিনি। ২০১৮ সালে এসএসসি পরিক্ষার্থী ছিলো মোট -৫৪ জন।রশিদের মাধ্যমে টাকা নেয়া হয়েছে ৩৬ জনের। আর ১৮ জনের টাকা স্কুলের ফান্ডে জমা না করে পকেটে পুরেছেন প্রধান শিক্ষক। কোন খাতের কত টাকা আসলো তা তিনি সংশ্লিষ্ট কোন শিক্ষককে জানান না।
এছাড়াও প্রধান শিক্ষক এসএসসি পরিক্ষার সার্টিফিকেট (সনদ পত্র) নিতে আসা শিক্ষার্থীদের নিকট ৪শত ও ৫ শত টাকা করে দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন একাধিক শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের ২০১৬/১৭/১৮/১৯ সালের এসএসসি ও জেএসসি ফরম পূরুনের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের পকেটে রাখেন। স্কুলে ২বছরের কোচিং-এর টাকা কোন শিক্ষকদের না দিয়ে তা তিনি একাই লোপাট করেছেন। এ কারনে স্কুলে কোচিং বন্ধ হয়েছে। কারন পারিশ্রমিক ছাড়া কোন শিক্ষক কোচিং করাবেন না।
লাইব্রেরীর ৫৮০ কেজি বই বিক্রি করেন প্রধান শিক্ষক। যাহা বিদ্যালয়ের পিয়ন দুলাল স্বিকার করেছেন।
একাধিক অভিভাবক ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে এসে তার সহযোগী শিক্ষকদের নিয়ে কাশিমপুর কুঠিতে (কাশেমের হোটেল) ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত থাকেন।
নির্বাচনী পরিক্ষায় যারা উত্তির্ণ হয় না (অন্য বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী) তাদের নিকট অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে ফরম পূরুণ করে থাকেন। সেই সাথে ব্যংকে টাকা জমা না দিয়ে নিজের পকেটে পুরে নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
নিয়ম বর্হিভূত ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলে তারা বলেন, হেড স্যারের সাথে কথা বলেন। আমরা কোন তথ্য দিতে পারবো না। তবে কৃষি শিক্ষক শোয়ায়েব আলী বলেন, আপনি যা ইচ্ছা লিখেন আমার কোন সমস্যা নাই।
এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলাম-এর মুঠো ফোনে ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন, ৮ম শ্রেণী পাশ সার্টিফিকেট দিয়ে আমি মানুষের উপকার করি। তবে টাকার নেওয়াসহ বিষয়গুলি এড়িয়ে যান। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলি জানতে চাইলে তিনি তার মুঠো ফোন কেটে দেন।

Share Button


     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ