৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
www.motherlandnewsbd.com

রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অর্থ লোপাটের অনুসন্ধানে দুদক!

জামি রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের রেললাইনে পাথর সরবরাহ ও স্টেশন পরিস্কারের নামে অর্থ লুটপাটের তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৭ সালে বিভিন্ন স্থানে রেললাইনে সামান্য কিছু পাথর ফেলে এবং এক বছর ধরে ভিম ও ব্লিচিং পাউডার না কিনেই গোপনে টেন্ডার কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
এর বাইরে আরো কয়েকটি বিষয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুদক। দুদকের একটি সূত্র এটি নিশ্চিত করেছে। এরই মধ্যে দুদক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে। এখন সেগুলো নিয়ে চলছে অনুসন্ধান।
রেলওয়ে সূত্র মতে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলীর সমেয় ২০১৭ সালে রেললাইনে পাথর সরবরাহের নামে কয়েক কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠে। রেলের গতি বাড়ানোর নামে রমজান আলীর সময়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন করা হয়। এরপর এই অঞ্চলের বিভিন্ন লাইনে ১০-৩০ কিলোমিটার হারে গতিও বাড়ানো হয়।
কিন্তু বছর খানেক না যেতেই একের পর এক রেল দুর্ঘটনার পরে রেল কর্তৃপক্ষ আবার গতি আগের অবস্থানে ফিরে নিতে বাধ্য হয়। এই অবস্থায় রেললাইন সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে কয়েকটি অনুসন্ধানী খবর প্রকাশ হয়।
রেলওয়ে সূত্র আরো জানায়, রেললাইন সংস্কারের পাশাপাশি গত কয়েক বছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের স্টেশনগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার নামেও টেন্ডার করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়। অথচ রেলস্টেশনগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাকাজে ব্লিচিং বা ভিম পাউডারসহ অন্যান্য মালামাল কোনো অর্থ বছরে কেনাই হয়নি। এ নিয়েও সম্প্রতি অভিযোগ উঠে।
তবে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, ‘কাজ না করে বিল পরিশোধের কোনো সত্যতা নাই। পাথর সরবরাহ করার পরেই টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। যারা ঠিকমতো পাথর সরবরাহ করেনি এমন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছিল। তার বিলও আটকে দেওয়া হয়েছিল। তবে আমি চলে আসার পরে সেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে শুনেছি। আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হয়নি।’
রেলওয়ে সূত্র আরো জানায়, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আওতায় সর্বমোট ২৩১টি স্টেশন আছে। এর মধ্যে ৯২টি বন্ধ হয়ে গেছে। আর ৫৮টি ক্ষয়িষ্ণু। এসব স্টেশনে কর্মকর্তাই তেমন নাই। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন এখনো রয়েছে প্রায় ৫০টির মতো। এই ৫০টির মধ্যে ১০টি স্টেশন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা করা হয় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আওতায়। বাকি ৪০টি স্টেশন রয়েছে প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণাধিন ট্রাফিকের আওতায়। এসব স্টেশন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার নামেই গত কয়েক বছর ধরে কয়েক কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে গত ২০১৮-১৭ সালে। এই দুই বছরের মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এএসএম এমতেয়াজের দপ্তরের মাধ্যমে কোনো ভিম লিকিউড বা পাউডার কেনাই হয়নি। অল্প পরিমাণে কেনা হয়েছে ব্লিচিং পাউডার। সেগুলোও নিম্নমাণের। পাউডারের ড্রামের নিচে পানি জমে গেছে নিম্নমাণের কারণে। এভাবে সরকারি অর্থ লোপটা করা হয়েছে। সবেচেয়ে বেশি অর্থ লোপাট হয়েছে এই দপ্তরের মাধ্যমে কেনা ব্লিচিং ও ভিম পাউডারের পেছনে।
অপরদিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার আওতায় ট্রাফিক বিভাগের আওতায় বাকি ৪০টি স্টেশন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা করা হলেও কেনাকাটা করা হয় প্রধান সরাঞ্জম কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন সরকারের দপ্তর থেকেও। তার দপ্তরের মাধ্যমেও নামমাত্র কিছু ব্লিচিং পাউডার কিনে অধিকাংশ টাকা লোপাট করেছেন ঠিকাদাররা। আর এসব অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক।
তবে জানতে চাইলে প্রধান সরাঞ্জম কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন সরকার বলেন, ‘মাল সরবরাহ না করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ নাই। মাল বুঝিয়ে নিয়েই টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।’
অন্যদিকে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসএএম এমতেয়াজের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জানতে চাইলে দুদকের রাজশাহী সম্নয় অফিসের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রেলের পাথর সরবরাহসহ বেশকিছু অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষ না হওয়ার পরেই পরবর্তি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

Share Button


     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ