৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
www.motherlandnewsbd.com

মৌসুমি খেজুর গাছের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে গাছিরা।

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ মোঃ রবিউল আওয়াল।
শীতের আমেজে হিমেল ঝিরঝিরি বাতাসে খেজুর গাছের তলায় গাছিরা যখন দাঁড়ায় আপন মনে তখন তাদের মন ভরে যায় অনাবিল আনন্দে। এ সময় শীতের সঙ্গে খেজুর রসের এক নিবিড় সম্পর্ক। খেজুর গাছ পরখ করে রস সংগ্রহ করে তারা। শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে খেজুর গাছ কাটার প্রতিযোগীতা পড়ে যায় গাছিদের মধ্যে। তাই খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে এসব এলাকার গাছিরা। এক সময় গ্রামের জনপদের সাধারণ মানুষ শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঁপতে কাঁপতে ঠান্ডা খেজুর রস না খেলে যেন দিনটাই মাটি গয়ে যেত। বাঙালির শীতের দিনের অন্যতম আকর্ষণ খেজুর গুড়ের তৈরি পিঠা-পায়েশ। প্রাচীন কাল থেকে অবিভক্ত ভারতে খেজুর গুড়ের জন্য বাংলাদেশ বিখ্যাত ছিল। এজন্য একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে ‘বাংদেশের যশ, খেজুরের রস’। দিন বদলের সাথে সাথে রাজশাহী অনেক পরিবর্তন হয়েছে। শুধু পরিবর্তন হয়নি খেজুরের রস সংগ্রহ এবং গুড়-পাটালি তৈরী পদ্ধতি। শীত মৌসুমের আগমনে ‘গাছিরা’ খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রস্ততি নিচ্ছে। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ইতোমধ্যে গাছিরা খেজুর গাছ তোলা চাচার (মাথা পরিস্কার) কাজ শুরু করেছে। অল্পদিনের মধ্যেই গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতিক মধুবৃক্ষ থেকে সুমধুর রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হবে গুড়-পাটালি তৈরির উৎসব। গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা, পায়েশ, মুড়ি-মুড়কী ও নানা রকমের মুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম পড়বে। সকালে এবং সন্ধায় কাঁচা রস খেতে খুবই মজদার। রসে ভেজা কাচি পোড়া পিঠার (চিতই পিঠা) স্বাদই আলাদা। রসনা তৃপ্তিতে এর জুড়ি নেই। রাজশাহী পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী গুড়-পাটালির ইতিহাস অনেক প্রাচীন। বৃটিশ আমলে খেজুর গুড় থেকে চিনি তৈরি করা হতো। খেজুরের গুড় থেকে চিনি তৈরি না হলেও এখন পর্যন্ত বাঙ্গালির কাছে খেজুর গুড়-পাটালির কদর কমেনি। তবে বিজ্ঞানের এই যুগে এখনো রস থেকে গুড়-পাটালি তৈরিতে মান্ধাতার আমলের পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। গুড়-পাটালি তৈরিতে আধুনিকতা আনা গেলে এটিও রপ্তানি পণ্যের তালিকায় স্থান পেত বলে মনে করেন চাষিরা। অবশ্য খেজুর গাছ আন্যান্য গাছের মত বপন করা বা সার মাটি দিতে হয় না। প্রাকৃতিক নিয়মেই মাঠে পড়ে থাকা খেজুরের আটি (বিচি) থেকে চারা জন্মায়। সৃষ্টি হয় খেজুরের বাগান। বর্তমান খেজুর গাছ ইট ভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় বেশ আগের থেকে এ অঞ্চলে গুড়, পাটালির উৎপাদন বহুলাংশে কমে গেছে। এখন আর আগের মত মাঠ ভরা খেজুর বাগানও নেই, নেই মাঠে মাঠে রস জ্বালানো চুলা। যা আছে তা নিতান্তই কম। পর্যাপ্ত নলেন গুড়, পাটালি পাওয়া দুষ্কর। মৌসুমে যা তৈরী হয় তা রীতিমত কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। আবহমান কাল থেকে তাই বাংলায় নবন্নের উৎসব পালনে খেজুর গুড়ের কদর বেশি। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে গাছিরা গাছ পরিস্কার বা তোলা চাচার উপকরণ গাছি দা, দড়ি তৈরি সহ ভাঁড় (মাটির ঠিলে) ক্রয় ও রস জ্বালানো জায়গা ঠিক করা সহ বিভিন্ন কাজে রয়েছে ব্যতিত্রæম। তবে ইট ভাটায় খেজুর গাছ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার সরকারী ভাবে নিষিদ্ধ না করলে এক সময় খেজুর গাছ পরবর্তি প্রজন্মের কাছে শুধু আরব্য উপন্যসের গল্পে পরিণত ।

Share Button


     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ