২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি
www.motherlandnewsbd.com

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মুক্তিযুদ্ধের চার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন চাই

মাদারল্যান্ড নিউজ ডেস্ক: মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গৃহীত চারটি প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি চাই এই প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন হোক।’
গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে ওই চারটি প্রকল্পের পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা প্রত্যক্ষকালে এ কথা বলেন। তিনি প্রকল্পগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
প্রকল্প চারটি হচ্ছে ঢাকায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়), অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্প, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্যানোরমা নির্মাণ প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মধ্যে প্রথম প্রকল্পের জন্য ২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজের শতকরা ৩০ শতাংশ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের (তৃতীয় পর্যায়) আওতায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ দেওয়ার স্থানটিতে এবং ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদানের স্থানটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণদানরত ১৮ ফুট দীর্ঘ একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে।
অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্পে ‘বীর নিবাস’ শিরোনামে ১৪ হাজার একতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী এই ভবনগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার হিসেবে প্রদান করবেন। চার ডেসিমেল জমির ওপর ৯০০ স্কয়ার ফিট আয়তনের এসব একেকটি ভবনের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
তৃতীয় প্রকল্পের আওতায় জনগণের সামনে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার জন্য মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে ‘মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্র’ নির্মাণ করা হবে। যে প্রকল্পটি বর্তমানে ৮১ দশমিক ৭৬ একর জমির ওপর বাস্তবায়িত হচ্ছে, এর জন্য আরো অতিরিক্ত ৪৯ দশমিক ২৭ একর জমির প্রয়োজন পড়বে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি প্যানোরমা নির্মাণের প্রস্তাবসংক্রান্ত প্রকল্পও প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে পরামর্শ দেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রেসসচিব ইহসানুল করিম এবং স্থাপত্য বিভাগের প্রধান স্থপতি এ এস এম আমিনুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হাশেম খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব এস এম আরিফুর রহমান পাওয়ার পয়েন্টে প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি ফ্রান্সের সমর্থন অব্যাহত থাকবে : বাংলাদেশে ফ্রান্সের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জিন-ম্যারিন সুও বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাঁর দেশ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম জানান, ফ্রান্সের টেকসই জ্বালানি নীতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, তাঁরা বাংলাদেশের জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-২ উৎক্ষেপণে বাংলাদেশকে সহযোগিতার বিষয়েও তিনি আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। তিনি পারস্পরিক সুবিধার্থে বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও আগ্রহ দেখান। সূত্র : বাসস।

Share Button


     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ