৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
www.motherlandnewsbd.com

পেঁয়াজ নৈরাজ্য ঠেকাতে সব উদ্যোগ অকার্যকর কেজিতে ৮-১০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকা

মাদারল্যান্ড নিউজ ডেস্ক: এক সপ্তাহ ধরে চাল, তেল ও চিনির বাজার স্থিতিশীল, সবজি নিম্নমুখীভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, সরকারের শীর্ষ মহলের হুঁশিয়ারি এমনকি উড়োজাহাজে আমদানির পরও পেঁয়াজের বাজার লাগামহীন। অতি অস্বাভাবিক দাম কিছুটা কমার লক্ষণ দেখা দিলেও তা আবার কেজিতে বেড়ে গেছে আট থেকে ১০ টাকা। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই পেঁয়াজের বাজারে এমন অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। সরকারি সংস্থা টিসিবি খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করলেও এর কার্যকর প্রভাব বাজারে নেই বললেই চলে। অবশ্য চাল, তেল ও চিনির বাজার গত এক সপ্তাহ স্থিতিশীল রয়েছে। শীতের সবজির বাজারও কমতির দিকে।
রবিবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের সরবরাহে কোনো সংকট নেই। ফকিরাপুল বাজারে এ দিন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২২০ টাকা কেজি। এ ছাড়া পাকিস্তান ও মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৪০ টাকায়। অথচ গত শনিবারও খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ ২০০ ও আমদানি করা পেঁয়াজ ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ফকিরাপুল বাজারে এক দোকানি বলেন, পেঁয়াজ ভেলকিবাজির পণ্য হয়ে উঠেছে। এর দাম কখন বাড়ে আর কখন কমে বলা মুশকিল। তাই দোকানেও রাখি না। দোকানির সঙ্গে আলাপচারিতার এই পর্যায়ে হুড়মুড় করে দোকানের ঝাঁপ নামানো শুরু হয়ে যায়। জানতে চাইলে পাশে দাঁড়ানো এক পথচারী বলেন, একটু আগে একজন এসে খবর দিয়েছে যে বাজারে মোবাইল কোর্ট এসেছে। তাই সবাই দোকান বন্ধ করে দিয়েছে।
কারওয়ান বাজারে গত দুই দিনে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে আট থেকে ১০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ১২০, মিসরের পেঁয়াজ ১১০ এবং দেশি পেঁয়াজ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় সাত্তার স্টোরের মো. নুরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, গত এক সপ্তাহে চিনি, ভোজ্যতেল ও চালের দাম আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে একটু বেশি। খোলা সয়াবিন তেল লিটারে পাঁচ টাকা বেড়ে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা হয়েছে। চিনি পাঁচ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। তবে প্যাকেট চিনি ৬৫ টাকা।
তবে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমে আসছে। তার পরও গত বছরের এ সময়ের তুলনায় বেশি।
এদিকে সরকারি সংস্থা টিসিবি খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করলেও বাজারে এর কার্যকর প্রভাব নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কমকর্তা হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাত্র পাঁচ টন পেঁয়াজ নিয়ে ট্রাক সেল শুরু করা হয়। এখন প্রতিদিন ৫০ টন পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতেও ট্রাক সেল দেওয়া হচ্ছে।
কালের কণ্ঠ’র রংপুর অফিস জানায়, বিভাগীয় এই শহরে টিসিবি ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। গতকাল সকালে মহানগরীর পাঁচটি পয়েন্টে খোলা ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়। এক কেজি পেঁয়াজের জন্য ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। পীরগাছায়ও টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রি করছে। গতকাল একটি ভ্যানে পেঁয়াজ এনে বিক্রি শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।
রংপুর টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবীর জানান, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ শাপলা চত্বর, প্রেস ক্লাব চত্বর, সিটি বাজার, ডিসির মোড় ও সিও বাজারে ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। নগরীর অন্যান্য মোড়েও পর্যায়ক্রমে ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।
ভাঙ্গুরা (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, গত সপ্তাহে ভাঙ্গুড়ায় পেঁয়াজের দাম অনেকটা কমলেও তা আবার বেড়ে গেছে। গত দুই দিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ২১০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেও তা ছিল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলখ্যাত সোনারগাঁয় ভোক্তা পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি। কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। তাও আবার বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে বাধ্য হয়েই ভালো আর পচা মিলিয়ে পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হচ্ছে ক্রেতারা।

Share Button


     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ