৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
www.motherlandnewsbd.com

কৃষি ব্যাংকের মেলান্দহ বাজার শাখা গ্রাহকের প্রায় ৭০ লাখ টাকা গায়েব এক কর্মকর্তা আটক, ঢাকা থেকে তদন্তদল যাচ্ছে আজ

মাদারল্যান্ড নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের জামালপুরের মেলান্দহ বাজার শাখার বেশ কয়েকজন গ্রাহকের হিসাব থেকে অনলাইনে প্রায় ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার মূল হোতা ওই শাখার দ্বিতীয় কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমানের নামে মামলার পর তাঁকে থানা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এদিকে ব্যাংকটির ময়মনসিংহ বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল গতকাল সোমবার বিকেলে ওই ব্যাংকে গিয়ে টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্ত ও অডিট দল আজ মঙ্গলবার মেলান্দহে আসছে। টাকা আত্মসাতের এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।
জানা গেছে, কৃষি ব্যাংক মেলান্দহ বাজার শাখায় দুবাইপ্রবাসী মো. রফিকুল ইসলামের একটি সঞ্চয়ী হিসাব রয়েছে। তিনি গত রবিবার সকালে কৃষি ব্যাংক জামালপুর শাখায় গিয়ে তাঁর ওই হিসাবে কত টাকা জমা আছে জানতে চান। ব্যাংক থেকে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর হিসাবে কোনো টাকা জমা নেই। তিনি তখন দাবি করেন সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ওই হিসাবে তাঁর ২১ লাখ টাকা জমা ছিল। তাঁর হিসাবে টাকা না থাকার বিষয়টি জানতে পেরে একই দিন তিনি দুপুর ২টার দিকে মেলান্দহ বাজার শাখায় গিয়ে তাঁর হিসাবে টাকা না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। তাত্ক্ষণিক তিনি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলামের কাছে লিখিতভাবে তাঁর হিসাবে ২১ লাখ টাকা জমা করার জন্য আবেদন জানান। এ সময় শাখা ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম ব্যাংকের দ্বিতীয় কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের কাছে জানতে চান, গ্রাহক রফিকুল ইসলামের হিসাব শূন্য কেন। তিনি কোনো সদুত্তর না দিতে পারায় তাত্ক্ষণিক তাঁকে ব্যাংকের স্টোররুমে আটক রেখে আরো বেশ কয়েকজন গ্রাহকের হিসাবে টাকার বড় অঙ্কের গরমিল ধরা পড়ে।
বিষয়টি কৃষি ব্যাংকের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে জানানো হলে গতকাল সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক মো. দিদারুল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে চার সদস্যদের একটি দল মেলান্দহে গিয়ে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে টাকা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ব্যাংকটির দ্বিতীয় কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তারা। প্রাথমিকভাবে মাসুদুর রহমান অনলাইনে বেশ কয়েকজন গ্রাহকের হিসাব থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা অন্য কোনো ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাত্ করেছেন বলে নিশ্চিত হন কর্মকর্তারা।
ব্যাংকের হিসাব থেকে ২১ লাখ টাকা হারানো ভুক্তভোগী গ্রাহক রফিকুল ইসলাম তাত্ক্ষণিক তদন্তদলের কাছে অভিযোগ জানিয়ে তাঁর টাকা ফেরত চেয়েছেন। রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার হিসাবে ২১ লাখ টাকা জমা ছিল। এরপর আর টাকা জমা দেই নাই। টাকা তুলিও নাই। তাহলে আমার এতগুলো টাকা গেল কোথায়?’
এদিকে ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দ্বিতীয় কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানকে স্টোররুমে আটক রাখলেও তাঁকে বাঁচাতে অপতত্পরতা শুরু করেন। গত রবিবার রাতে ব্যবসায়ী মো. রোকনুজ্জামান চৌধুরীকে ব্যাংকে ডেকে এনে তাঁর কাছ থেকে ধার হিসেবে ১৮ লাখ টাকার একটি চেক লিখে নেন শাখা ব্যবস্থাপক। চেকটি দেওয়া হয় দ্বিতীয় কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের নামে। ব্যবস্থাপক ওই টাকা সোমবার ফেরত দিতে চেয়েছিলেন। রোকনুজ্জামান চৌধুরী গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৮ লাখ টাকার চেকটি ফেরত পাননি। ধারণা করা হচ্ছে, এই ১৮ লাখ টাকার চেকটি কোনো একজন গ্রাহকের হিসাবে জমা করা হয়েছে। যেহেতু চেকটি জমা করা হয়েছে সেহেতু শাখা ব্যবস্থাপক এই ধার করা টাকাও ফেরত দিতে পারছেন না।
গ্রাহক রোকনুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ব্যবস্থাপক অন্য গ্রাহকের চুরি করা টাকার হিসাব মেলাবে, তা আমি রবিবার রাতে বুঝতে পারিনি।’
ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি না। টাকা আত্মসাত্কারী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের তো শাস্তি হবেই। প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকজন গ্রাহকের হিসাব থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা সরানো হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে।’
কৃষি ব্যাংক ময়মনসিংহ বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক দিদারুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘শাখার দ্বিতীয় কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রাহকদের হিসাব থেকে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা তুলে আত্মসাত্ করেছেন বলে ধারণা পাওয়া গেছে। টাকার পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। কতজন গ্রাহকের টাকা সরিয়ে কোথায় জমা রাখা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। আপাতত ব্যাংকের পক্ষ থেকে মেলান্দহ থানায় একটি মামলা করে তাঁকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে জানা যাবে কতজন গ্রাহকের হিসাব থেকে মোট কত টাকা সরানো হয়েছে।’

Share Button


     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ