২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি
www.motherlandnewsbd.com

ওবায়দুল কাদের বললেন সড়ক আইন এই মুহূর্তে সংশোধন সম্ভব নয়

মাদারল্যান্ড নিউজ ডেস্ক: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নতুন সড়ক পরিবহন আইন এই মুহূর্তে সংশোধন সম্ভব নয়। তা যাচাই-বাছাই করে সংশোধনের যুক্তি থাকলে তা বিবেচনা করা হবে।’ গতকাল সোমবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে সরকার ‘হট অ্যান্ড কুল’ নীতিতে এগিয়ে যাবে। এখানে পিছু হটার কিছু নেই। আমরা আইনি অবস্থানে থেকেই বাস্তবতার পরিস্থিতিতে বিষয়টি কিছুটা সহনীয়ভাবে দেখছি। তবে আইন এই মুহূর্তে সংশোধন সম্ভব নয়। সড়কমন্ত্রী বলেন, দেশে ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান যখন বন্ধ হয়, তখন তো অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়, পণ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এখন আমি ‘অ্যাগ্রেসিভ মুড’ নিলাম, কিন্তু এর বাস্তবতা তো ভিন্ন। কাজেই আইনটাও যেন থাকে, একই সঙ্গে এর প্রয়োগ যতটা সম্ভব সহনীয় পর্যায়ে রাখা দরকার। আইনের বিধিমালা হচ্ছে, এটি হয়ে গেলে আরো অনেক কিছু সহজ হয়ে যাবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সড়ক আইনের সমস্যা সমাধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি পরিবহন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, আমার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাঁরা তাঁদের (পরিবহন নেতারা) দাবি জানিয়েছেন, আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। এ মুহূর্তে কিছু করা সম্ভব নয়। সংসদে যেহেতু আইন পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বিষয়টি আলোচনা করব।’
এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন সড়কমন্ত্রী—‘আইন পরিবর্তন কোথায় হলো? জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হয়েছে। পরিবর্তন করতে হলে সংসদেই আবার নিয়ে যেতে হবে। তারা (পরিবহনসংশ্লিষ্টরা) দাবি করেছে, সেটা আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি। যদি যাচাই-বাছাই করে সংশোধনের মতো বাস্তব কোনো যুক্তিসংগত, ন্যায়সংগত বিষয় থাকে সেটা অবশ্যই বিবেচনা করা হবে। কিন্তু যাচাই-বাছাই করার আগে তাদের দাবি নিয়ে আমি তো এখন হুট করে কোনো মন্তব্য করতে পারি না যে আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন হবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন সড়কে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়ছে। একটা ভয়ভীতি কাজ করছে। আইনের প্রয়োগটা বন্ধ করা হয়নি। কিছু কিছু বিষয়ে বাস্তবতার স্বার্থে শৈথিল্য দেখানো হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে রয়ে-সয়ে চলতে হবে। কারণ বাস্তবতা ভিন্ন। আইনের বিধি হয়ে গেলে অনেক কিছু সমাধান হবে। সবার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত তো চাপিয়ে দেওয়া হয়নি, সবার সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পরিবহন নেতাদের কাছে সরকার জিম্মি কি না জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কারো কাছে কেউ জিম্মি নয়। পরিবহনের সঙ্গে দুদিনের অবস্থা বিচার করে দেখেন। মিডিয়া বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচকভাবে আইনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে এক সপ্তাহ অচলাবস্থা হলে মিডিয়ার সুর পাল্টে যাবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পিছু হটার বিষয় নেই, যা বাস্তব, দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী যে বিষয় নিয়ে আমাদের অবস্থান নেওয়া দরকার, আইনি ব্যবস্থা রেখে জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

Share Button


     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ